ঘাসের জলে সন্ধ্যা নেমে এলে

ঘাসের জলে সন্ধ্যা নেমে এলে



রোদের চেয়েও তপ্ত কোন মনের
উঠে নামে এমন হাতের দিনে―
বাড়িয়ে দিয়ে গলা, মুখ হারানো বেলায়
থেমে থেমে আসছে কারো করাত
চেরাই করে রাখা জানলাভাঙ্গার আওয়াজ
বাজছে আরো কাছে একটি দুটি প্রাচীন দুঃখ বলা―
ভাঙা মনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে হাওয়া,
দূরে কোথাও ভেজা কলের হাতল
চোখেরতলায় শুকিয়ে গেছে তোমার বাড়ির ছায়া―

ধরো আমার বানান বাড়ি,
টুকরো হবার এমন একটি মানুষ
উঠোন সেলাই করে করে
চোখের জামা বানিয়ে নেবার পর 
তাকিয়ে আছে
বরষা নামে নামে, এমন জীবন ফেলে
পাখির পেছন পেছন
তুমি শুকনো খড়ের তলে
যে চিটে ধানের বুকে
লুকিয়েছিলে মন
ধরো তার কায়দা চেনে চেনে
নিষেধ তুলে পড়
আমার লেখা বইয়ে
শিমুল তুলোর নরম দিয়ে বাঁধা  
কোথাও কোথাও
কর্জ ছিল বিরহ এমন সহজতর―

নামের বদল একটি পথের যাওয়া
তোমার দিকে সরে
নেতিয়ে পড়ে বাড়াবাড়ির ঘরে
পিঁড়ি ভেবে বসি, তোমার আলগোছে― 
আমি বলতে থাকি একটি মৃতের হাতে
একটি মিছিল করে, সকল ফুলের ব্যথা
স্লোগান তুলে করে দিলাম ফেরি
হাঁটতে থাকা হয়, হাঁটা শেষ হবে না জেনেও
যে লোক পায়ের ধুলো মুছে―

আমায় গাছ চেনে না কোন
আমার রোদ ছিল না কোথাও―
আমায় ছেড়ে গেছে ছায়া
আমার অবশ ছিল পাও―

বলতেছিলাম এমন কিছু কবেই―
পৃথিবীর যে দাগ বসেছে বুকেই
মানচিত্র আলগা করে
খুঁজতেছিলাম সেই
( কোথাও কোথাও আছে
দলিল করে তোমায় লিখে দেবে
কোথাও এমন কোন দেশের
নামঠিকানা নেই )

তোমার নামের বদল নামে
পাড়ায় পাড়ায় যে অচেনা মুখে
নিন্দা পেয়ে পেয়ে গজিয়ে উঠছে 
আমার যত বেনাম―

দাঁড়িয়েছিলাম কোথাও একটা কিছুর তলে―
শালিক ডেকেছিল, উজাড় করে থমথমে এক দুপুর
জঙ্গল ছেড়ে কাছে এসেছিল―
সেবার আমার বানান বাড়ি
রোদের চেয়েও তপ্ত কোন মনের
বরষা নামার দিনে
ভিজতে চেয়েও দেরি করে দিল
ছুটির ঘণ্টা বাজাও বলে
ওড়না ধরে থাকা তোমার স্কুলের একটি দুটি ক্লাসে
বানান করার তাড়া―
আমিও বানান করে পড়ি
দীর্ঘ লাগে তোমার চলে যাওয়া―
মাথা নিচু করে, একটা পাখি ডাকে―
স্কুলের ভেতর, স্কুলের বাইরে―
একটু একটু করে আমার দুটো চেনা বর্ণের ফাঁকে
শিস কেটে যায় তোমার অচিন হাওয়া―
মনে ছিল, জলের ধারে এসেছিল সাপটা কেমন
বঁড়শি গিলে বসে ছিলাম, টুপুস করে উঠতে
কার কপালে কী যে লেখা ছিল
শুনেছিলাম বুকের ভেতর হিসহিসানি
আওয়াজ ছিল, নূপুর ছিল, ডাঙ্গায় হাঁটতেছিল মরণ―
আলতা দেওয়া একটি কাঠের পায়ে। 

দেহ পোড়াবার লাকড়ি দেখা যায়, মন পড়ে আছে বনে
আমায় অনেক চেনা হলো, তোমার আগুনে
পুুড়বো কখন? দেখতে ছিলাম
আমার জামায়
আমার গায়ে
আমার চারিপাশে
ফুলের ঘ্রাণ উতলে পড়ার দিন
হারিয়ে গেছে আয়ুর থলেটি―
কোথাও বরষা নেমেছিল, দাঁড়িয়েছিলাম একটা কিছুর তলে
শালিক দেখেছিল, দূরে ভাঙ্গা মনের পাশে নগ্ন হয়ে একটি মেয়ে বসে
আমায় অন্ধ ডেকেছিল, কাছেই একটি দুটি জোনাক
উসকে দিয়ে কেরোসিনের মায়া
শুনে ফেলেছিল
ঘাসের জলে সন্ধ্যা নেমে এলে
তোমার কথা ভেবে
আমার রাত হয়ে যায় সব ফেলনা বাতির প্রিয়―

সাদাফ আমিনের কবিতা : দুর্দিন ম্যাগাজিন


Sadaf Amin

Sadaf Amin is a Bangladeshi Blogger, known for Tutoring Blogging and Easy Steps to Reading eBooks. Learn Advanced Blogging, Read Tech Tutorials, Bangla eBooks, Tips and Tricks on Several Topics from Sadaf Amin.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম